• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
চিলমারীতে দ্বিতীয়বারের মতো অংকুর পাঠাগারের বই বিনিময় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত প্রবল বৃষ্টিতে ধানমন্ডি ১২/এ সড়কে বিশাল গাছ উপড়ে পড়ে, দুমড়েমুচড়ে গেল ৩ গাড়ি ঝিকরগাছা প্রশাসনের উদ্যোগে নাজমুল ইসলাম স্প্রাবি শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ বিতরণ করলেন এমপি -মুন্নি ম্যানেজিং কমিটির হাতেই ফিরছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা, এনটিআরসিএ দেবে শুধু সনদ কুড়িগ্রামে ৮ শতক জমির বিরোধে সহিদুলকে হত্যা, সাঁরাশি অভিযানে ১৭ জন গ্রেপ্তার হুমকি, হয়রানি ও ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ,কুড়িগ্রাম থানায় প্রথম টিভির চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ গোপালগঞ্জে কামিল সারোয়ার মাতা মারা গেছেন নাগেশ্বরীতে সরকারি ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ, কৃষকের তালিকায় হতদরিদ্র, ভূমিহীন ও অকৃষক নাগেশ্বরীতে ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের নাম, ক্ষোভ বিএনপিতে রংপুর বিভাগের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন-

নিজের চুল বিক্রি করে সন্তানের মুখে খাবার, মাথা গোঁজার ঠাঁই চান রেহানা

প্রথম টিভি নিউজ ডেস্কঃ / ২০ Time View
Update : রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেহানা খাতুন। মাথার ওপর নেই স্থায়ী ছাদ, নেই নিশ্চিত খাবারের ব্যবস্থা। কখনো খোলা আকাশের নিচে, আবার কখনো অন্যের আশ্রয়ে দিন কাটছে তার। এমন চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতে নিজের মাথার চুল পর্যন্ত বিক্রি করতে হয়েছে তাকে।

রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশে বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন রেহানা ও তার দুই সন্তান। সরকারি জায়গায় স্থানীয়দের সহায়তায় বাঁশ দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হলেও অর্থের অভাবে সেটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কিছুদিন আগে রেহানা পাশের একটি বাড়ির ঝুপড়ি ঘরে ভাড়া থাকতেন। কিন্তু ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধের সামর্থ্য না থাকায় শেষ পর্যন্ত নিজের চুল বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করেন তিনি।

স্থানীয় নারী ফেরদৌসী বেগম জানান, একদিন রেহানাকে চুল ছাড়া অবস্থায় দেখে বিষয়টি জানতে চাইলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তখন রেহানা জানান, ঘরের ভাড়া পরিশোধ করতেই বাধ্য হয়ে চুল বিক্রি করেছেন।

রেহানার বর্তমান অবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি আবাসন বা অন্য কোনো সহায়তার মাধ্যমে এই অসহায় পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা হোক।

স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আবু তালেব শেখ বলেন, রেহানার পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ। সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিলে অন্তত দুই সন্তানকে নিয়ে তার মাথা গোঁজার একটি স্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে।

এদিকে সরেজমিনে দেখা যায়, রেললাইনের পাশেই বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, টিন ও বেড়া দেওয়ার ব্যবস্থা করা গেলে ওই ঘরেই রেহানা ও তার সন্তানদের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম বলেন, ঘরের বাঁশের ফ্রেম প্রস্তুত রয়েছে। এখন টিন ও বেড়ার ব্যবস্থা হলেই পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা সম্ভব হবে। এ কাজে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রেহানা খাতুন বলেন, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রতিদিন কষ্ট করে বেঁচে আছেন তিনি। একদিকে খাবারের সংকট, অন্যদিকে থাকার জায়গা নেই। সন্তানদের বৃষ্টিতে ভিজতে না দেওয়ার জন্য একটি ছোট ঘরই এখন তার সবচেয়ে বড় চাওয়া।

রেহানার এই অসহায়ত্ব শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি চরম দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র। সন্তানদের জন্য নিজের শেষ সম্বলটুকুও বিসর্জন দেওয়া এই মায়ের পাশে দাঁড়াতে সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category