২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মঙ্গলবার মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্স। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠা স্পেন যখন দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্নে বিভোর, তখন দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের লক্ষ্য টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।
সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘ফ্রান্সের উচিত স্পেনকে ভয় পাওয়া।’ তবে সেই হুঙ্কারের জবাব দিয়েছেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেছেন, ‘আপনি কাউকেই ভয় পেতে পারেন না। আমরা এখন আমাদের সেরা প্রস্তুতি নেব এবং আশা করি শেষ পর্যন্ত ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।’
২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালের রানার্সআপ ফ্রান্স জানে, স্পেনকে হারানো সহজ হবে না। কারণ গত দুই বছরে উয়েফা ইউরো ২০২৪ এবং উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছেই হেরেছিল ফরাসিরা। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই হিসাব চুকানোর সুযোগ পাচ্ছে তারা।
পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত রক্ষণভাগ গড়ে তুলেছে স্পেন। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে একমাত্র গোল হজম করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোলই খেয়েছে লা রোজারা।
কোনাতে বলেন, ‘স্পেন অসাধারণ একটি দল। তাদের দলে অনেক ব্যক্তিগত দক্ষতাসম্পন্ন ফুটবলার রয়েছে। লামিন ইয়ামাল দারুণ খেলোয়াড়, কিন্তু আমরা শুধু একজনকে নয়, পুরো দলকেই মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
ফ্রান্সের আরেক সেন্টার-ব্যাক ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্সও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি “ভয়” শব্দটি ব্যবহার করব না। তবে আমরা তাদের গুণগত মান সম্পর্কে সচেতন। তারা প্রায় সব ম্যাচ জিতেছে। আমরা তাদের সম্মান করি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য একটাই—জয়।’
ইয়ামালকে থামানোর পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন ল্যাক্রোইক্স। তার ভাষায়, ‘লামিন একজন অসাধারণ ফুটবলার। এই বিশ্বকাপে সে প্রতিপক্ষকে বারবার বিপদে ফেলেছে। তাকে আটকাতে আমাদের যা করার প্রয়োজন, আমরা সেটাই করব।’
ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে চায়। তবে কোনাতে জানিয়েছেন, ফাইনালের স্বপ্নে বিভোর না হয়ে তারা আপাতত পুরো মনোযোগ দিচ্ছেন সেমিফাইনালেই। তিনি বলেন, ‘আমরা মাটিতে পা রেখেই এগোচ্ছি। পরের ধাপ নিয়ে এখনই ভাবছি না।’
সব মিলিয়ে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসী বার্তার জবাবে ফ্রান্সও আত্মবিশ্বাসে টইটম্বুর। দুই ইউরোপীয় শক্তির এই মহারণে কে ফাইনালের টিকিট পাবে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।