কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার একটি জমিজমা-সংক্রান্ত মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে নাগেশ্বরী থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) শিমুল সরকারের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা দাবি করেছেন, মামলার তদন্তে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ এবং ঘুষের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করেছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তদন্তকে নিজেদের পক্ষে নিতে একটি পক্ষ এসআই শিমুল সরকারকে ঘুষের প্রস্তাব দেয়। তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষ্য-প্রমাণ, নথিপত্র এবং প্রযুক্তিগত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন করেন। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও পক্ষপাতদুষ্ট তদন্তের অভিযোগ এনে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, নাখারগঞ্জ বাজার এলাকার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ওসমান গনির জ্যেষ্ঠ ছেলে মফিজুল ইসলাম আস্করনগর মৌজায় ৪৮ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আতাউর রহমানের স্ত্রী তাহমিনা দিলরুবা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার এসআই শিমুল সরকারের ওপর অর্পণ করেন।
এসআই শিমুল সরকার বলেন,আমার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করিনি। আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করেছি। তদন্তে ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত, মোবাইল লোকেশনসহ সব ধরনের প্রমাণ যাচাই করা হয়েছে। প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার কারণেই একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করার চেষ্টা করছে।
এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম মোর্শেদ জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।