বিএনপির সংসদ সদস্যরা যেসব আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, সেসব এলাকায় সারের কোনো সংকট হয়নি এবং সার নিয়ে কোনো আন্দোলনও হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর দাবি, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের আসনগুলোতেই কৃত্রিম সারসংকট দেখা দিয়েছিল।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো কুড়িগ্রাম সফরে এসে জেলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সার্কিট হাউজে পৌঁছালে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
মীর শাহে আলম বর্তমানে রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। গত ২৭ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এসব জেলার সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জেলা পর্যায়ে সরকারি কার্যক্রমের সমন্বয়, সুশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকির উদ্দেশ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের মধ্যে জেলাভিত্তিক এ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামসহ সারা দেশে সারের সংকট নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কুড়িগ্রাম জেলায় সারের সংকট নিয়ে বহু নিউজ আমরা দেখেছি। কিন্তু সারের সংকট যে সময় বলা হয়েছিল, সে সময় কোথাও কোনো সারের সংকট ছিল না। কৃত্রিম সারসংকট সৃষ্টির সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল ও ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় নিয়োগকৃত কিছু ডিলার যুক্ত ছিল।’
তিনি আরও বলেন, সার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও দুর্নীতি রোধে সরকার নতুন করে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে একজন করে সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি দেশে সারের চাহিদার চেয়ে দেড়গুণ বেশি সার আমদানির প্রস্তুতিও সরকার ইতোমধ্যে গ্রহণ করেছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে এবং ৬ জুনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা হবে। এই নির্বাচন নিয়ে কোনো কলঙ্ক বিএনপি সরকার নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল নিয়ে বিরোধীদলের কর্মসূচির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মসূচির নাম ‘রোড মার্চ’ হওয়া উচিত ছিল। কারণ লং মার্চ হয় পায়ে হেঁটে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা নিজেও স্বীকার করেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যা বিএনপি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তা সত্ত্বেও সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হক চৌধুরী ডন এবং লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক মমিনুল ইসলাম।